ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিক ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে ৫৫টি জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে এসব সনদ নিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ইউপি সদস্য। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ জন বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ ও সনদ ইস্যুর ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, এলমিনা সুজি, মেরি জায়েদ, রুবেল আইচ, জেহেরিশ গনি মেহেক ও জিটুনা ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নামের ব্যক্তিদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। এসব সনদে জন্মস্থান হিসেবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর স্থায়ী ঠিকানা দেখানো হয়েছে মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার। এ ছাড়া বাঙালি নাম ব্যবহার করেও ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি একাধিক সনদে একই নাম ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান ফিরোজ ও হিসাব সহকারী মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিক ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে জন্মনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ এবং সনদ ইস্যু করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল বারী মণ্ডল।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য আব্দুল বারী মণ্ডল জানান, জন্মনিবন্ধনে ব্যবহৃত এসব নাম ও ঠিকানার কোনো ব্যক্তিকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরাও এসব ব্যক্তিকে চেনেন না। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন একজন ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিক সেবা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ নথি। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশি নাগরিক ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা। প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান ফিরোজ দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে এসব আবেদন করা হয়েছে, যাতে তাঁদের ফাঁসানো যায়। সনদে ব্যবহৃত নাম ও ঠিকানার ব্যক্তিদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।
হিসাব সহকারী মাহমুদা বেগম জানান, এসব জন্মনিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোতে সিল ও স্বাক্ষর স্ক্যান করা ছিল। প্রথমে কাগজপত্র সঠিক মনে হওয়ায় তিনি সনদগুলো প্রিন্ট করেন। পরে ভালোভাবে যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে বুঝতে পারেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রধান রিপন জানান, তিনি কম্পিউটার চালাতে জানেন না। এ কারণে জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত সব কাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান ফিরোজ করে থাকেন। নিবন্ধন কার্যক্রমের ওটিপি গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া ব্যক্তিদের নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর বিষয়টি সম্প্রতি তাঁর নজরে এসেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
<p style="text-align: center;">প্রকাশক, সম্পাদক: মোঃ রবিন মিয়া</p><p style="text-align: center;">নাম্বারঃ ০১৭৭২৬৬৬০৮৬</p><p style="text-align: center;">ঠিকানাঃ ৮১০/৩ শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা</p><p style="text-align: center;">মেইলঃ Protidinerbangladesh026@Gmail.com</p><p style="text-align: center;"><br></p>
Copyright © 2025 All rights reserved