৬ লাখের পর আরও ৪ লাখ—কাফরুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কাফরুলে ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান রাব্বিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন গত ১৪ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাফরুল থানার বি অ্যান্ড সি জহুরুল হক সড়কে পাঁচ কাঠা জমিতে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

দেলোয়ারের অভিযোগ, ওই সময় তাঁর কাছে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডকে’ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। এ অর্থের বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্বে ঢাকা-১৬ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান রাব্বি রয়েছেন বলেও তাঁকে জানানো হয় বলে এজাহারে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে হাবিবুর রহমান রাব্বির বাসায় গিয়ে প্রথম দফায় ৬ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই সময় তাঁর বাবা সঙ্গে ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থাৎ দুই দফায় মোট ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

তবে টাকা দেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দেলোয়ার। তাঁর দাবি, এরপরও বিভিন্ন সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণ নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এজাহারে দেলোয়ার হোসেন আরও দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কয়েক দফায় কাফরুল থানায় যোগাযোগ করলেও প্রথমদিকে তাঁর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর লিখিত এজাহার গ্রহণ করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাব্বিকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সময় আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আব্বাস আলীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর দেলোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কিংবা এর কোনো ব্যক্তি সম্পৃক্ত নন।

এজাহারে মামুনকে প্রধান আসামি করে হাবিবুর রহমান রাব্বি, বাবলাসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দেলোয়ার হোসেনের আনা অভিযোগের বিষয়ে হাবিবুর রহমান রাব্বি এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *