ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য আইন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল মামলা পরিচালনা বা জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাও তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

শুক্রবার বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত নৈতিকতা বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহায়তায় ‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের জন্য প্রসিকিউটরিয়াল এথিক্সের নীতি ও অনুশীলনকে শক্তিশালী করা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন করা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার থাকতে হবে। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কোনো স্থান থাকবে না।

তিনি উপস্থিত আইন কর্মকর্তাদের সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ন্যায়বিচারের সঙ্গে মানুষের মর্যাদা জড়িত

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস বিভিন্ন দেশে বিচার খাতে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আইন, আদালত, প্রক্রিয়া বা সাজা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন ও মর্যাদার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। সততা কোনো খণ্ডকালীন বিষয় নয়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি সিদ্ধান্তে এর প্রতিফলন থাকতে হবে।

ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে বলেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের একই সঙ্গে দৃঢ় ও সংযতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রসিকিউটরদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে উচ্চ মানের সততা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে আইন ও আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে নিজেদের হালনাগাদ রাখতে হবে।

অংশ নেন ১৬০ আইন কর্মকর্তা

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সহযোগিতা করছে ইউএনডিপি বাংলাদেশ। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৬০ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল’, জাস্টিস ও সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়েগার, ইউএনওডিসি বাংলাদেশ অফিসের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হকসহ দেশি-বিদেশি ফৌজদারি বিচার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *