
গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর এপি ও রয়টার্স।
নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে ‘বাস্তবিক অর্থে নিরস্ত্র’ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করবে না।
গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফা নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে।’
তবে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা নেতানিয়াহু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন।
গত মাসে চুক্তি বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম বলেন, ‘আমরা এই রোডম্যাপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে হামাস আশা করছে।
অবশ্য হামাস ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটি ব্যবহার করছে না। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করে সংরক্ষণে রাখতে সম্মত হয়েছে। এসব অস্ত্র গাজা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের অধীনে সংরক্ষিত থাকবে। ওই প্রশাসন ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।
হামাস বলেছে, যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতেই তারা এ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। তবে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চুক্তির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরায়েল আগে তার নিজস্ব প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করছে কিনা, যার মধ্যে রয়েছে সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা করা হয়। এরপর গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। এছাড়া ধ্বংস হয়ে গেছে দেশটির বেশির ভাগ অবকাঠামো।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
ইসরায়েল জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলায় অংশ নেয়া যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে। সোমবার লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বন্ধ করার আগে তারা এ অভিযান চালিয়ে যায়।
ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে জনশূন্য করে ফেলেছে। ফলে ২০ লাখের বেশি বাসিন্দার প্রায় সবাই গাজার উপকূলের পাশে হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ছোট্ট ভূখণ্ডে আটকা পড়েছেন। তাদের অধিকাংশই অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন।
