
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় বোয়েলোর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্য। ঝড়ের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক। বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াতে বিঘ্নের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ভোগ এখনই কাটছে না। নতুন করে প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডে। এসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। এছাড়া স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে স্বাভাবিক সময়ের এক মাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঝড়ের সময় গাছপালা উপড়ে পড়ে হতাহতের এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ এলাকায় উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং উত্তর লন্ডনে একটি চলন্ত গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে বিশের কোঠার এক তরুণ প্রাণ হারান। এছাড়া, গাছচাপা পড়ে আহত অপর দুই নারীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদী ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পরিবেশ সংস্থাগুলো একাধিক বন্যা সতর্কতা জারি করেছে।
ঝড় ও রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়ার কারণে দেশটির সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে বহু বিমানের ফ্লাইট বাতিল কিংবা তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার আবহাওয়া কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মঙ্গলবার থেকে নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। এই আশঙ্কায় স্কটল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।




