
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশটির ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের’ হাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ২৫ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে আইআরজিসি বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনে ‘পরিবর্তন’ আনা প্রয়োজন। চলমান যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন দেশটির জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
চিঠিতে ইরানকে চলমান যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, কর্মসূচি বন্ধ করা কিংবা অন্য যেসব লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করেছিল, সেগুলোর কোনোটি অর্জিত হয়নি।
তবে আইআরজিসি স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনা এবং কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীটির দাবি, হামলার মূল উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ইরানের জনগণ ও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিল রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দেশের সাধারণ মানুষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি ট্রাম্পকে ‘মিথ্যুক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে যে ক্ষতি হচ্ছে, সে সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকেরা পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বেসামরিক কাজে জ্বালানি ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। তবে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ওই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল রপ্তানি হতো, বর্তমান রপ্তানি তার প্রায় ৭৭ শতাংশ।
সূত্র: আল-জাজিরা।
