নতুন ছবির জন্য ২৫ কেজির বেশি ওজন বাড়াচ্ছেন ভিকি

বিনোদন ডেস্ক : বিখ্যাত যোদ্ধা ও চিরঞ্জীবী ভগবান পরশুরামের মানসিক জগৎ ও চরিত্রকে অনুধাবন করার আগে, পর্দায় তার সুবিশাল ও শক্তিশালী অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে এক নজিরবিহীন শারীরিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলিউড অভিনেতা ভিকি কৌশল। নির্মাতা অমর কৌশিকের বহুল প্রতীক্ষিত পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘মহাবতার’-এর প্রধান চরিত্রের জন্য ভিকিকে তার বর্তমান ওজনের চেয়েও ২৫ কেজির বেশি ওজন বাড়াতে হবে।

আগামী ডিসেম্বরে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই পরশুরামের দানবীয় ও বলিষ্ঠ রূপ ফুটিয়ে তুলতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অভিনেতার এই কঠোর ফিটনেস প্রশিক্ষণ পর্ব শুরু হচ্ছে। এই প্রজেক্টের জন্য ভিকি আবারও তার ‘ছাভা’ (২০২৫) সিনেমার ট্রেনার তেজস লালওয়ানির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণে শক্তিশালী যোদ্ধা-মুনির মতো সুগঠিত শরীর তৈরির জন্য ভিকি সময় পাচ্ছেন মাত্র তিন মাস। এই রূপান্তরের পেছনের কারণ জানিয়ে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ভিকি ইতিপূর্বে তার ‘ছাভা’ চলচ্চিত্রের জন্য ৮০ কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজন বাড়িয়ে ১০৫ কেজিতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ‘মহাবতার’-এর জন্য তাকে আরও অনেক বেশি সুবিশাল ও সুঠাম দেহের অধিকারী দেখতে হতে হবে। প্রাচীন গ্রন্থে পরশুরামকে এক দীর্ঘদেহী, অপরাজিত ও অমর ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেই পৌরাণিক রূপের প্রতি অনুগত থাকতে ভিকিকে চওড়া ছাতি ও প্রকাণ্ড শারীরিক শক্তির অধিকারী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হবে, কারণ ছবির বহু দৃশ্যে তাকে পরশুরামের ঐশ্বরিক কুঠার ‘পরশু’ হাতে যুদ্ধ করতে দেখা যাবে। এ ছাড়া এই চরিত্রের জন্য ভিকিকে ধনুর্বিদ্যা বা তিরন্দাজিও শিখতে হবে।

এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে ভিকি কৌশলের পুরো কার্যক্রমটি মূলত তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভর করবে—কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ, সঠিক পুষ্টি গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম। ফিটনেস কোচ তেজস লালওয়ানি ও পুষ্টিবিদ অলকেশ শারোত্র যৌথভাবে ভিকির জন্য একটি নিবিড় কোর ট্রেনিং এবং ডায়েট চার্ট তৈরি করছেন। তার শরীর চর্চার মধ্যে থাকবে স্কোয়াট, ডেডলিফ্ট, বেঞ্চ প্রেস ও পুল-আপের মতো মাল্টি-জয়েন্ট ব্যায়াম, যেখানে ক্রমাগত ওজন বাড়ানো হবে এবং ব্যায়ামের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হবে। নতুন পেশি ও টিস্যু গঠনের জন্য তার দৈনিক খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত ২৫০ থেকে ৫০০ ক্যালরি যুক্ত করা হচ্ছে। এই খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি বাদাম, দুগ্ধজাত খাবার এবং সামগ্রিক দানাশস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণ ও খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো বিশ্রাম। নতুন পেশির টিস্যুগুলো সঠিকভাবে পুনরুদ্ধারের জন্য ভিকিকে প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এ ছাড়া শরীরের একই অংশের পেশিগুলোতে পুনরায় ভারী ব্যায়াম করার আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার বিশ্রাম সুনিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই এই সুবিশাল শারীরিক রূপান্তর সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *