ফুটবল বিশ্বকাপ : গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কে এগিয়ে?

ক্রীড়া ডেস্কঃ এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গোলের সম্ভাবনাও বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে আরও জমে উঠেছে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার কার পায়ে উঠবে এই সম্মানজনক ট্রফি- সেই প্রশ্নেই এখন উত্তেজনা তুঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপ আসরে ম‍্যাচ বেড়েছে ৪০টি, আর সেই কারণেই গোলের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই বাস্তবতায় বিশ্ব ফুটবলের সেরা ফরোয়ার্ডরা রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে-কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?

ফিফার তৈরি শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকারা। পাশাপাশি উঠে এসেছেন তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালও।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯৮ ম্যাচে ৫৬ গোল করা এমবাপে বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। বয়স ২৭ হলেও ইতিমধ্যে বিশ্বকাপে দুইবার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনায় থাকা এই ফরোয়ার্ড এবারও অন্যতম ফেভারিট। ক্লাব ও জাতীয় দলে তার গোল করার ধারাবাহিকতা তাকে আলাদা অবস্থানে রাখছে।

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১১৩ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখে দারুণ ফর্মে থাকা এই স্ট্রাইকারের সামনে এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ—দুইবার গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা।

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন)

স্পেনের এই ফরোয়ার্ড এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। দেশের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন তিনি। যদিও বিশ্বকাপে আগে তার অভিজ্ঞতা নেই, তবে সতীর্থ পেদ্রি, ইয়ামাল ও উইলিয়ামসের কারণে তার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ ম্যাচে ৫৫ গোল- এমন পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি ‘গোল মেশিন’। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন হলান্ড। প্রতিপক্ষ যেই হোক, গোল করার ক্ষমতায় তিনি অন্যতম শীর্ষে।

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৯ ম্যাচে ১১৭ গোল করা মেসি বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছেন। বয়স বাড়লেও তার ফর্ম এখনও স্থির। আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এবারও তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করা রোনালদো এখনও জাতীয় দলে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপগুলোতে তিনি গোল্ডেন বুটের আরেকটি সুযোগ খুঁজছেন।

লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)

মাত্র ১৯ বছরের আগে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া এই তরুণ উইঙ্গার ইতিমধ্যে আলোচনায়। গতি, ড্রিবলিং ও শট—সব মিলিয়ে তিনি বড় চমক হয়ে উঠতে পারেন।

উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিউস জুনিয়র ও রাফিনিয়া

ফ্রান্স ও ব্রাজিলের এই তিন উইঙ্গারও আছেন আলোচনায়। বিশেষ করে দেম্বেলে ও ভিনিসিউস ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রাফিনিয়াও বার্সেলোনার আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম জমজমাট প্রতিযোগিতা। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ প্রতিভার এই মিশেলে শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন- তা এখনই বলা কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *