রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। যদিও নিঝনেকামস্ক শহরে চালানো এই হামলার বিষয়ে কিয়েভ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১,১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। সেখানে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার ও একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে এই হামলা চলে।

হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিওটি যাছাই করা সম্ভব হয়নি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ছবিতে দিনের আলোয় আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে এবং বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজতে শোনা গেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া না গেলেও, কিয়েভ সম্প্রতি এমন সব স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে রাজস্ব ও কারিগরী সহায়তা জোগায় বলে তারা দাবি করে।

মস্কো নিশ্চিত করেছে, আবাসিক এলাকার পাশাপাশি শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সেখানে এমন বেসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা কোনো সামরিক অভিযানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিখানভ হামলাটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন।

নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ বলেছেন, এটি আমাদের সবার জন্য এক গভীর বেদনাদায়ক ঘটনা।তাতারস্তানে শোকের সময় ঘোষণা করা হয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, রাতের বেলা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে কিয়েভ ক্রমশ সফল হয়ে উঠছে। তারা প্রায়শই গুদাম বা জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের শহর ও আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত বড় আকারের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় ২১ জন নিহত হন। এছাড়া সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত খারকিভে রাতের বেলা রাশিয়ার গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *